বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জমা দেওয়া চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের বিল আদায়ের জন্য প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক মানুষ ভবন থেকে বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন, যা প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটির সিঁড়ি ও জরুরি বহির্গমন পথগুলো গ্যাস সিলিন্ডার ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে ঠাসা ছিল। এছাড়া অষ্টম তলা ও ছাদটি অবৈধভাবে ডুপ্লেক্স রেস্তোরাঁয় রূপান্তর করায় মানুষ ছাদে আশ্রয় নিতে ব্যর্থ হন। সিআইডির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির সেই রাতে ৪৬ জন মারা যান, যাদের মধ্যে ৪৩ জনই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের তালিকায় আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের এমডি রমজানুল হক নিহাদ এবং কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁর মালিক সোহেল সিরাজসহ বেশ কয়েকজন রেস্তোরাঁ মালিক ও ব্যবস্থাপকের নাম রয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, নিচতলার একটি কফিশপের ইলেকট্রিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। ভবনটিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং দাহ্য ডেকোরেশন সামগ্রীর আধিক্যের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রেস্তোরাঁ মালিক সোহেল সিরাজ অবশ্য বিল আদায়ের জন্য তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং ঘটনার সময় তাদের কর্মীরা কাঁচ ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেছিলেন। তিনি জানান, সেই রাতে সরাসরি রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার কোনো বিশেষ অফার ছিল না। তবে সিআইডি তাদের তদন্তে ব্যবস্থাপকের নির্দেশেই ফটক তালাবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভবনটিতে একাধিক নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিশ্র ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও পুরো ভবনটি অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিশেষ করে ১০টি রেস্তোরাঁর কোনোটিরই বৈধ নথিপত্র ছিল না। সিআইডির মতে, যথাযথ ভেন্টিলেশন ও উন্মুক্ত ছাদ থাকলে নিহতের সংখ্যা অনেকটা কমানো সম্ভব হতো। মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় রয়েছে।
