যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের কারাজ শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বি১’ সেতুটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন এই সেতুটি তেহরানের সাথে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজকে সংযুক্ত করার কথা ছিল। হামলার পর আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ঘোদরাতুল্লাহ সাইফ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। ১৩৬ মিটার উঁচু এই স্থাপনাটিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উঁচু সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময় শেষ হওয়ার আগেই ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে আসা। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে মার্কিন প্রশাসনের ‘নৈতিক পতন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই অবকাঠামো ধ্বংসের জবাবে ইরান কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর আটটি প্রধান সেতুর একটি ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করেছে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আইআরজিসি-র সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের সমুদ্র সেতু, আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ ও শেখ খলিফা সেতু এবং সৌদি-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে। এছাড়া জর্ডানের কিং হুসেন ও আবদুন ব্রিজকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বেসামরিক ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সেতু ও ভবন আগের চেয়েও শক্তিশালী করে পুনর্গঠন করা হবে। বর্তমানে এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বড় ধরনের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







