২০০৬ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। তখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যার মেয়াদ শেষের সময় নতুন নির্বাচন নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। বিরোধী দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তখন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায়। এই প্রেক্ষাপটে সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা অবশেষে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দিকে ঠেলে দেয়। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং নির্বাচনের তারিখ স্থগিত করা হয়।
দুই বছরের জরুরি অবস্থার পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল বিজয় লাভ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩0-এর বেশি আসন জিতে নেয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। বিজয়ের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার (২০০৯–২০২৪) নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমালোচনা ও অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে বিরোধী দল, মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সমস্যা তুলে ধরেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় একতরফা নির্বাচন হয়, এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধীরা ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এ কারণে সমালোচকরা বলেন, দেশে কার্যকর গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলি যেমন Human Rights Watch ও Amnesty International, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে “গুম” বা বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ সময়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক সমাবেশে বাধার ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপি দাবি করে, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমালোচনা করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) ব্যবহার করে সাংবাদিক, ব্লগার বা সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন।
দূর্নীতির ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠে, বিশেষ করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে। তবে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল তুলে ধরে। সরকারের দাবি, তারা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাস দমন করতে কাজ করছে, এবং গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা করেছে।
মোটকথা, শেখ হাসিনার শাসনামলকে কেউ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার সময় হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা গণতন্ত্রের সংকোচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক দমনকে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন।







