যশোরের মণিরামপুরে দুটি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের দুই টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোদাচ্ছের গাজীর বিরুদ্ধে। উপজেলার বাকোশপোল এলাকায় ‘বাকোশপোল বালক বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও কাগজপত্রে জালিয়াতি করে এই চাল উত্তোলন করা হয়। অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজী দেবিদাসপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থানীয় দুটি কওমী মাদ্রাসার নাম আংশিক পরিবর্তন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাপ্রধানদের অন্ধকারে রেখে মোদাচ্ছের গাজী নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি সাজিয়ে চাল উত্তোলন করেন। পরে সেই চাল বিক্রি করে তিনি ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে তিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষককে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা ওই শিক্ষক প্রত্যাখান করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে আবেদনগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পিআইও অসুস্থ থাকায় অফিস সহকারীর মাধ্যমে তালিকাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। জেলা কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ইউএনও স্বাক্ষরিত তালিকার ভিত্তিতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চাল বরাদ্দের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মণিরামপুর থানা বিএনপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, চাল আত্মসাতের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত মোদাচ্ছের গাজীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় এবং তার সরকারি ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







