দেশের চলমান সংকটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যাসহ সিনেমা দেখার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, যখন সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতের নড়বড়ে অবস্থায় বিপর্যস্ত, তখন সরকারপ্রধানের এমন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড এক নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই সফরের বিষয়টি সব গণমাধ্যমে ঘটা করে সরাসরি সম্প্রচার করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ভেন্টিলেটরের অভাবে ২৪ জন শিশুর মৃত্যু এবং হামের প্রাদুর্ভাবে প্রয়োজনীয় টিকার সংকটে শিশুদের প্রাণহানির মতো ঘটনা জনজীবনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যান্ডেজ কেনার মতো জরুরি সরঞ্জামাদির তহবিল সংকটের কথা জানানোর পর এমন বিলাসিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এই ‘রঙঢং’ সাধারণের ভোগান্তির প্রতি উদাসীনতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সীমা কমানো হয়েছে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিয়েবাড়ি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমন এক অবরুদ্ধ ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে সিনেমা হলে গিয়ে উৎসবমুখর সময় কাটানোকে অনেকেই ‘রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল’—এই প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করছেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস সিলিন্ডারের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে হাহাকার চলছে। এই প্রতিকূল সময়ে সরকারপ্রধানের এমন পদক্ষেপকে সাধারণ নাগরিকরা সাধারণের দুঃখ-দুর্দশা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমালোচকরা বলছেন, যেখানে কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য জনগণের ওপর একের পর এক বিধি আরোপ করা হচ্ছে, সেখানে ক্ষমতার শীর্ষে বসে এমন উদযাপন সরকারের দ্বিমুখী অবস্থানকেই স্পষ্ট করে তুলছে।







