ক্ষমতায় যাওয়ার আগে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ উঠেছে দলটির বিরুদ্ধে। সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পর বিএনপি এখন আগের অবস্থান ভুলে গিয়ে সংবিধানকেই নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতার পথে এসেছে বিএনপি, সেই প্রেক্ষাপট ও দাবিগুলো থেকেই দলটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের কথা বলায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এতে করে তাদের ঘোষিত ইশতেহারের সাথে বর্তমান অবস্থানের অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক নেটিজেনের দাবি, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল বলে তারা মন্তব্য করছেন।
কিছু সমালোচক আরও বলছেন, সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেই পার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা জনগণ সহজভাবে নিচ্ছে না। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এছাড়া বিরোধী মত থেকে অভিযোগ উঠেছে, সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটি অকার্যকর সংসদ গঠনের পথ তৈরি করা হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে সংবিধান ইস্যুতে বিএনপির বর্তমান অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







