দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের কারণে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ক্যারিকেচার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে বিভক্তি আরও তীব্র হয়েছে।
জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে একটি অংশ শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে প্রতীকী চিত্র উপস্থাপন করলে তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতি, উদীচীর ভেতরে মতাদর্শিক বিভাজনকে সামনে নিয়ে এসেছে।
একাংশ বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের চেষ্টা করছে, অন্য অংশ পুরোনো ধারা ধরে রাখার পক্ষে রয়েছে।
এ ঘটনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিতর্কিত কর্মসূচিটি পুরো সংগঠনের নয়; বরং একটি অংশের উদ্যোগ। তারা দাবি করে, ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন নিয়ে মতপার্থক্য থেকেই এ বিরোধ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্ব ও নীতিগত প্রশ্নে বিভক্তি প্রকট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জাতীয় সম্মেলনেও নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে দুটি পৃথক কমিটি গঠিত হয়।
বর্তমানে সংগঠনটির দুই অংশ আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিভক্তি সমাধান না হলে সংগঠনটির কার্যক্রম ও প্রভাব আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
