ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তানে আয়োজিত কোনো আলোচনা সভায় যোগ দিতে তেহরান কখনোই অস্বীকৃতি জানায়নি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। আরাগচি অভিযোগ করেন যে, ইসলামাবাদে আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য প্রচার করছে।
আরাগচি তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন যে, ইরান পাকিস্তান সরকারের শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং ইসলামাবাদ সফরে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কেবল আলোচনার খাতিরে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। বরং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধ’ বন্ধের জন্য তেহরান একটি চূড়ান্ত এবং স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যদিও আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো আগে জানিয়েছিল যে তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি সংঘাতকালীন আলোচনায় বসতে নারাজ। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাবকে কেবল একটি কৌশল বা ‘ফাঁদ’ হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে তারা পুনরায় গুছিয়ে নিয়ে হামলার সুযোগ পায়। এই অবিশ্বাসের পরিবেশের মধ্যেই আরাগচি যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বর্তমানে ইসলামাবাদে এই আলোচনার আয়োজন নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। পাকিস্তান সরকার সক্রিয়ভাবে সব পক্ষকে এক টেবিলে আনার চেষ্টা করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সর্বশেষ ইতিবাচক ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রচার নিয়ে তেহরানের কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, বড় শক্তিগুলোর মধ্যকার তথ্যযুদ্ধ এখনও সমান্তরালভাবে চলছে।







