২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও জ্যেষ্ঠ আমলা আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান এখনো তার সরকারি পদে বহাল রয়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি হত্যা ও সহিংসতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। গুরুতর এসব ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়ার পরও তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা সাময়িক বরখাস্ত না করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান তার বর্তমান পদ ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রকল্পের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন। বিপ্লবের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের অগ্রগতি তিনি নানাভাবে বিলম্বিত করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। একজন হত্যা মামলার আসামির হাতে এমন সংবেদনশীল প্রকল্পের দায়িত্ব থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হলে বা গ্রেপ্তারের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও এই আমলার ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক এই শিথিলতার সুযোগ নিয়ে তিনি দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রকল্পের নথিপত্র আটকে রাখছেন বলে অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। বিষয়টিকে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
বর্তমানে জুলাই জাদুঘর প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জুলাই হত্যার আসামিরা যদি পদে বহাল থেকে বিপ্লবের স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন, তবে তারা পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে নামবেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত এই আমলার অপসারণ এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
