ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে অনাগ্রহ ও উদ্বেগ ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজনের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। এছাড়া আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলার শিকার হয়েছে, যার পাইলট কোনোমতে ইজেক্ট করে রক্ষা পেয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা আকাশপথে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ থাকার দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এতদিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করে আসছিলেন যে, ইরান প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়েছে এবং তাদের রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করছে যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশাসনের দেওয়া তথ্যগুলো বাস্তবতার সাথে পুরোপুরি মিলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ইরানের সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখিয়ে আসছিল। গত ২৪ মার্চও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন বিমানগুলো তেহরানের ওপর অনায়াসে উড়ছে এবং ইরান কিছুই করতে পারছে না। তবে আইআরজিসি (IRGC) এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক ধরে রেখেছে বলে জানা গেছে। সামরিক সাফল্যের এই অতিরঞ্জিত প্রচার এখন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে আস্থা কমছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ জনগণকে ভাবিয়ে তুলছে। মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশ মনে করছে, এই যুদ্ধের লক্ষ্য স্পষ্ট নয় এবং বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। সামরিক আধিপত্যের দোহাই দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে এখন আর মার্কিন জনতা আগ্রহী নয়।







