ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘জেএএসএসএম-ইআর’ (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে থাকা ২,৩০০টি মিসাইলের মধ্যে গত চার সপ্তাহে ১,০০০-এর বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য মাত্র ৪২৫টি মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে, যা পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
হোয়াইট হাউস ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি একটি এ-১০ জেট এবং দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ইরানের অভিযানে ১২টিরও বেশি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় আকাশপথে মার্কিন নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দাবি এখন প্রশ্নের মুখে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও অত্যাধুনিক মিসাইলের ঘাটতি ভাবিয়ে তুলছে পেন্টাগনকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান থেকে সস্তা জেডিএএম (JDAM) বোমা ফেলার কৌশল নিচ্ছে। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও বসে নেই; তারা ইতিমধ্যে ১৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৪০০০-এর বেশি শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
