ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালি নিয়ে একের পর এক কূটনৈতিক ও কৌশলগত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথমে স্পেনের একটি জাহাজকে এই জলপথ অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়ার পর গতকাল ফ্রান্সের একটি জাহাজকেও পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইরান এই অঞ্চলে নিজের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করছে এবং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রণালির সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশে মাইন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এখন কেবল ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন অংশ ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যেসব দেশের জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তারা পরোক্ষভাবে হলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। স্পেন ও ফ্রান্সের জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে। এই চাপের মুখে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের আকাশসীমা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ইরানের এই কৌশলী অবস্থান ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা এখনো ওয়াশিংটনের নীতি অনুসরণ করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত থাকবে, তাদের তেলের জাহাজ মাসের পর মাস হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকবে।
জ্বালানির অভাবে জনজীবন অচল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের চাপেই পশ্চিমা দেশগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ উন্মুক্ত না করার জোরালো অবস্থানের পরই তাদের জাহাজ পার হতে দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এবং টোল আদায়ের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ইরান নিজেদের দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির এই কূটনৈতিক চালগুলো মূলত ইউরোপকে আমেরিকার বলয় থেকে বের করে আনার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গ ত্যাগ করার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরান।







