দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করার সেই স্মৃতি স্মরণ করেছেন তার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানের সিনেমা দেখতে যাওয়ার একটি খবরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সে সময়ের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
মারুফ কামাল খান তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সেই সময় গুলশান কার্যালয়ের সামনে ইট ও বালুভর্তি ট্রাক রেখে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। জলকামান ও বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মদতপুষ্ট একদল অভিনয় শিল্পী ও ক্যাডার বাহিনী সেখানে নিয়মিত মহড়া দিত। তাদের মধ্যে অভিনেত্রী তারানা হালিম এবং অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চঞ্চল চৌধুরী তখন সেখানে এসে তাদের ফাঁসি দাবি করতেন এবং মানসিক নিপীড়ন চালাতেন।
সেই অবরুদ্ধ দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবেক এই প্রেস সচিব জানান, দীর্ঘ তিন মাস তারা কার্যালয়ের ভেতরে আটকে ছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের খাবার সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বাসা থেকে খাবার আসলেও ভেতরে থাকা অন্য নেতাকর্মীরা কেবল চিড়া ও মুড়ি খেয়ে দিনাতিপাত করতেন। কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এক অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মারুফ কামাল খান আরও বলেন, চঞ্চল চৌধুরী ভালো অভিনেতা হতে পারেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধী দলের ওপর চালানো নির্যাতনে তিনি পরোক্ষভাবে সমর্থন জুগিয়েছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেয়েসহ সিনেমা দেখতে যাওয়ার পর কিছু সংবাদমাধ্যমে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা দেখার ভুল খবর প্রচার হলে তিনি এই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করেন। যদিও পরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী এবং তার মেয়ে ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ নামক একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন।







