ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ না করার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রিন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের কাছে কোনো মারণাস্ত্র বিক্রি করবে না প্যারিস।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভট্রিন আরও জানান, ফ্রান্স কেবল রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য কিছু যন্ত্রাংশের অনুমোদন দিয়েছে, যা মূলত আয়রন ডোম ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন। এর বাইরে কিছু সরঞ্জাম কেবল পুনঃরপ্তানির জন্য রাখা হয়েছে, যার একটি অংশ ফ্রান্সের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়। আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য কোনো সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে না।
এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসনে অংশ নেবে না ফ্রান্স। প্যারিসের এই অবস্থানে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তের পর ফ্রান্সকে আর ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে এই বিভক্তি ইসরায়েলের জন্য বড় একটি ধাক্কা। যেখানে ওয়াশিংটন সরাসরি ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে, সেখানে ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী ইউরোপীয় দেশের এই পিছুটান রণক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।







