আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, গুমের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে তাঁর অনমনীয় ভূমিকার কারণে তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর হুমকির মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাজুল ইসলামের এই আকস্মিক দেশত্যাগের ঘটনায় বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, গুমের সাথে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে এবং ভারতীয় মদদপুষ্ট বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষার্থেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষার চেষ্টার সাথে তাঁর দেশত্যাগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাজুল ইসলামের মতো দক্ষ ও আপসহীন একজনকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাটি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফ্যাসিবাদের দোসর ও প্রভাবশালী মহলের অপতৎপরতা আবারও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি না, সেই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মানবাধিকার কর্মীরা। তাজুল ইসলামের এই চলে যাওয়াকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। দেশের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের কারণেই এই বর্ষীয়ান আইনজীবীকে শেষ পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নিতে হলো কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই রহস্যজনক পরিস্থিতির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







