যশোর সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে তার প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে দীর্ঘ দিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের এই অভিযোগ জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারুন অর রশীদ নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরিবারটিকে হুমকি প্রদর্শন করেছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার বিকেলে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে রবিবার (৫ এপ্রিল) সদর উপজেলা বিএনপি হারুন অর রশীদের দলীয় পদ স্থগিত করেছে। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন যে, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে দলীয় তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। বর্তমানে এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
