উত্তরা ও পূর্বাচলে আদি হিন্দুদের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র দুই লাখ টাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘকে (ইসকন) বরাদ্দ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরার ৩৫ কাঠা এবং পূর্বাচলের ৮৩.৩ কাঠা জমি নামমাত্র মূল্যে ইসকনকে দিতে গিয়ে স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের মন্দির নির্মাণের পুরোনো আবেদন রাজউক থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাচল উপশহর গড়তে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি গ্রামের সাড়ে আট হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বসতভিটা ও মন্দিরের জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজউক। পরে তাদের উপাসনা ও শ্মশানের জন্য ৮৩.৩ কাঠা জমি নির্ধারণ করা হলেও ২০২৩ সালে সেই জমি এক লাখ টাকায় ইসকনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের আবেদন ও সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালেও উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ৩৫ কাঠা জমি মাত্র এক লাখ টাকায় বরাদ্দ পেয়েছিল ইসকন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাষ্ট্রীয় ও রাজউকের আইন অনুযায়ী একটি সংস্থাকে একবার জমি বরাদ্দ দেওয়ার পর পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। এই দ্বৈত বরাদ্দকে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। অথচ ইসকনের কোনো সদস্য ওই এলাকার আদি বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসকন কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা নিয়ম মেনেই জমি বরাদ্দ পেয়েছে এবং স্থানীয়রা সরকারের দেওয়া প্লট পেয়েও মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে।
রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম এই বরাদ্দের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। নথিপত্র যাচাই করে এই বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান। বর্তমানে এই জমি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আদি হিন্দু সম্প্রদায় ও ইসকনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।







