ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেন্দ্রগুলোকে তারা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করবে। ইরানি সামরিক কমান্ডারদের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে এসব উন্নত এআই এবং আইসিটি অবকাঠামো ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি ইরান ১৮টি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে অ্যাপল, গুগল, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্ট কোম্পানিগুলো রয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়েই তাদের দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আবুধাবিতে অবস্থিত মেগা এআই ডেটা সেন্টার ‘স্টারগেট’-কে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার সরাসরি হুমকি দিয়েছে তেহরান।
হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যৌথভাবে সতর্ক করেছে যে, শত্রু পক্ষ যদি ড্রোন ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের নেতাদের টার্গেট করা বন্ধ না করে, তবে এসব কেন্দ্র বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা মনে করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে পরিচালিত এই হামলাগুলো যুদ্ধের প্রচলিত নিয়মকে নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে।
এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোকে সরাসরি যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা ডিজিটাল ও প্রথাগত যুদ্ধের সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের মার্কিন এআই অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে।
