পাকিস্তানের তৈরি নতুন একটি ‘কামিকাজে’ ড্রোন বা লয়টারিং মিউনিশনের ছবি অনলাইনে প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রোনটি দেখতে অনেকটা ইরানের বিখ্যাত শাহেদ ড্রোনের মতো। পাকিস্তান বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা আমির হুসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই ড্রোনের ছবিগুলো প্রথম প্রকাশ করেন।
আমির হুসাইন জানান, ড্রোনটির নাম ‘মুদামির এলআর’, যা পাকিস্তানের বেসরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস তৈরি করেছে। যদিও বাহ্যিক দিক থেকে এটি শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি, তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এর অভ্যন্তরীণ নকশা এবং কারিগরি কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। এটি পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আধুনিক মরণাস্ত্র।
তিনি তার পোস্টে শব্দটিকে মুদমির (Mudmir) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরবি বা উর্দু মূল শব্দ ‘মুদাম্মির’ (Mudammir) থেকে এটি এসেছে, যার অর্থ ‘ধ্বংসকারী’।
মুদামির এলআর কেবল কোনো পরীক্ষামূলক মডেল নয়; বরং এটি ইতোমধ্যে সামরিক শক্তিতে যুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরব সাগরে অনুষ্ঠিত এক সামরিক মহড়ায় পাকিস্তান নৌবাহিনী সফলভাবে এই ড্রোনটি ব্যবহার করেছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডিফেন্স শো-তেও ড্রোনটি প্রদর্শন করে সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি এই কোম্পানিটি বর্তমানে পাকিস্তানের ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস বর্তমানে বছরে প্রায় ৫০০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। স্পুটনিক ইন্টারন্যাশনালের সূত্রমতে, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই কামিকাজে ড্রোন পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলছে।
