ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ফলে দেশের মানুষের ব্যাপক ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত।
রুমিন ফারহানা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা গুরুত্ব পাচ্ছে। একই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রপতির ভাষণ এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, যা স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নেতাকর্মীরা পাশে ছিলেন। তাদের সমর্থনই তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছে।
জুলাই গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না; বরং একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন থেকেই এ আন্দোলনের জন্ম।
নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও পরে তাদের গুরুত্ব কমে গেছে। সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং অর্থপাচার দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা না গেলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।







