জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার মাত্র তিন দিন আগে তাঁর সঙ্গে তামিমের সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকের মতে, এই সাক্ষাৎ তৎকালীন সরকারের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে, যার জেরে সে সময় ছাত্র-জনতার একটি অংশ তামিমকে বয়কটের আহ্বান জানায়।
এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন নানা জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। নির্বাচনের দুই মাস পূর্ণ না হতেই তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর এই দ্রুত উত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি করছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অবস্থান বদলানোর ফলেই তামিম এই পদে আসীন হয়েছেন। কেউ কেউ তীব্র ভাষায় মন্তব্য করে বলছেন, “বিপ্লবের তিন দিন আগে গণভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করা ব্যক্তি এখন নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ হয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন।” যদিও এসব মন্তব্যের পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও বিষয়টি জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে বিসিবির নতুন কমিটি গঠন নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে, বোর্ডের বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নাম সামনে এসেছে বলে আলোচনা চলছে।
সমালোচকদের মতে, একটি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থায় এ ধরনের দলীয় প্রভাব বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা মনে করছেন, ক্রিকেট বোর্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি, না হলে এর প্রভাব দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।







