মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালিয়ে দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেও কৌশলগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই লক্ষ্য অর্জন করা মোটেই সহজ হবে না। ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অত্যন্ত বিকেন্দ্রীভূত এবং সহনশীলভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা যেকোনো বড় আকারের আক্রমণ মোকাবিলায় সক্ষম। দেশটির গ্রিড ব্যবস্থা এতটাই ছড়িয়ে আছে যে, কেবল বাগাড়ম্বর দিয়ে একে অচল করা সম্ভব নয়।
বর্তমানে ইরানে ১৩০ থেকে ১৫০টির মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসে চলে। সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশ উৎপাদন করে। ফলে কয়েকটি বড় কেন্দ্রে বোমা হামলা চালালেও পুরো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না। এছাড়া ১,০০০ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার আরও প্রায় ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকায় একটি পুরো সিস্টেমকে অচল করা লজিস্টিক্যালি প্রায় অসম্ভব।
ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশই নিজস্ব গ্যাস ও তেল থেকে আসে, ফলে জ্বালানি সরবরাহে বাইরের কোনো দেশের ওপর তারা নির্ভরশীল নয়। দেশটির সঞ্চালন লাইন ১,৩৩,০০০ কিলোমিটার এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ১৩ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এই বিশাল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি অচল করতে হলে হাজার হাজার সাবস্টেশন ও ট্রান্সফরমারে একযোগে হামলা চালাতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন বিমান হামলার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলার চেষ্টা করলে উল্টো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় তেল স্থাপনাগুলোর ওপর ইরান ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে। এতে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক গর্জনের চেয়ে বাস্তবতা হলো—ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস করার চেষ্টা ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।







