দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফা কঠোর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মতে, শত্রুপক্ষ যুদ্ধে স্পষ্টভাবে পরাজিত হয়েছে এবং বর্তমানে ইরানের ইচ্ছা মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই তাদের ব্যর্থতা বুঝতে পেরেছিল এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত মেনে নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না চালানো, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং দেশটির পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেওয়া। এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আগের সব প্রস্তাব বাতিলের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
শর্তগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ইরানকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা। একইসঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টিও এই চুক্তির অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি নিরাপত্তা সংস্থা এই ৪০ দিনকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সম্মিলিত যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই সময়ে ইরান ও তার মিত্ররা শত্রুপক্ষের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে পিছু হঠতে বাধ্য করেছে।







