জাতীয় সংসদে হামে শিশুমৃত্যু, টিকার ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, টিকা পরিবহনকর্মীদের বকেয়া বেতন, জনবলসংকট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
বুধবার সংসদের অধিবেশনে এ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করলে তাঁর বক্তব্যের জবাব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, টিকার ঘাটতি ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং মজুত বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। এডিবির অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করে নতুন টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে কোনো এলাকায় হামের বিস্তার রোধে ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকা দিতে হয়। কিন্তু দেশে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তিনি আরও জানান, প্রায় ৩৫টি জেলায় টিকাদান কর্মসূচিতে জনবলসংকট রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকা পরিবহনকারীরা বেতন পাননি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী বিশ্বে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকাগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু জেলা ও উপজেলায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে ইতিমধ্যে টিকা বিতরণ জোরদার করা হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে কর্মসূচি এগিয়ে আনা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
সংসদে আলোচনার এক পর্যায়ে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত দেখা যায়। রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু শিশুমৃত্যুর তথ্য তুলে ধরেন। তবে মন্ত্রী জানান, যাচাই-বাছাই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক মৃত্যুই নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।
