বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে ইরান ও চীন এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। তারা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প হিসেবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানকে সামনে আনতে চাইছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালু করেছে এবং কিছু জাহাজের কাছ থেকে ইউয়ানে ফি আদায় করছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসের শেষদিকে অন্তত দুটি জাহাজ এভাবে টোল পরিশোধ করেছে, যা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিকভাবে অপমান করা এবং দ্বিতীয়ত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মিত্র দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। চীন বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনে থাকে, যার বড় অংশই ইউয়ানে লেনদেন হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনকে একটি ‘বহু-মেরু আর্থিক বিশ্ব’ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। চীনের জন্য এটি বড় একটি সুযোগ, কারণ তারা বিশ্বজুড়ে ডলারনির্ভর ব্যবস্থা ভেঙে ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে চায়। জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, বিশ্ব তেলের বাজারে ‘পেট্রো-ইউয়ান’ যুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
তবে ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। আইএমএফ-এর তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের অবস্থান এখনো ৫৭ শতাংশ, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র দুই শতাংশ। এছাড়া চীনের কঠোর পুঁজি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউয়ান এখনো ডলারের মতো অবাধে রূপান্তরযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনই বিশ্বকে পুরোপুরি ডলারমুক্ত না করলেও জ্বালানি বাণিজ্যে একটি শক্তিশালী বিকল্প পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে চীন যেহেতু এখন বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ, তাই ইরানের মতো দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় শিল্পপণ্যের জন্য চীনের ওপর নির্ভর করে সহজেই ডলারকে এড়িয়ে চলতে পারছে। এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন আর্থিক আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
