লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবারও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আজ সকালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য প্রণালীটি আংশিকভাবে খোলা হলেও, লেবাননের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
লেবাননের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, কেবল বৈরুতেই নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি গোরস্তানেও ইসরায়েলি বাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই আগ্রাসনের পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ঘোষণা করেছে যে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী খোলার কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হবে না।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইরানের পাশে থেকে লড়াই করেছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই তাদের নীতি হলো—হয় সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি হবে, না হলে কোথাও কোনো যুদ্ধবিরতি থাকবে না। লেবাননে এই হামলার পর ইরান এখন সামরিকভাবে এর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আজ সকালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রথম একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছিল। এ সময় ইরান একটি নতুন নিয়ম চালু করে, যেখানে প্রণালী দিয়ে পার হওয়া তেলের ওপর প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার শুল্ক দাবি করা হয়। এই পাওনা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
তবে আংশিক খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই লেবাননের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সব জাহাজ চলাচল আবারও আটকে যায়। এর আগেও ইরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করলেও, এবার লেবানন পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই জলপথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।







