বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিমানবন্দর থানার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বুধবার যুবদল বিমানবন্দর থানা শাখার নেতা রাসেল সরকার এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডাক গ্রহণ ও বিতরণ শাখায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে রাসেল সরকার নিজেকে যুবদলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আল আমিন হোসেন শান্ত রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি ও অর্থ লুটের মতো অভিযোগ রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর তাঁর এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, দক্ষিণখান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা হয় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মারধর ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে শান্তকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৪ এপ্রিল দক্ষিণখান এলাকায় সরকারি মাটি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতাসহ কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, এসব ঘটনার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংগঠনের একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘শেল্টারদাতা’ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে।
রাসেল সরকার অভিযোগ করেন, শান্ত ও তাঁর অনুসারীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরাও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এসব ঘটনায় ছাত্রদল ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রাসেল সরকার বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।







