রংপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, তিনি কেবল ওপর মহলের নির্দেশ পালন করেছেন। পুলিশের চাকরি করায় তিনি হুকুমের গোলাম হিসেবে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি এই রায় মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং একে নিজের প্রতি অন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার এই রায়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের পরিবার পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে আবু সাঈদের মৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায় স্পষ্টভাবে উঠে আসায় ট্রাইব্যুনাল এই কঠোর সাজার আদেশ দেন। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।







