শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন অভিনেত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী রোকেয়া প্রাচী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জিয়াউল আহসানের একটি ছবির ওপর ‘নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি এই দাবি জানান। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসান কারাগারে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগে থাকাকালীন তিনি অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদীতে অন্তত ৫০ জনকে পেট কেটে ডুবিয়ে মারা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, ২০০৯ সালে র্যাবে যোগ দেওয়ার পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। সেনাবাহিনীর কোনো অপারেশনাল কমান্ডের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নজিরবিহীনভাবে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক অবসর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর গুম এবং শাপলা চত্বরের অভিযানে নিহতের ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আলাদা তদন্ত চলছে।
অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। জিয়াউল আহসানের মতো বিতর্কিত ও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তি চেয়ে পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন।







