মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি বিভিন্ন অর্থনৈতিক মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সংকটের ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে পারে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হলেও, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে রিজার্ভ ২ হাজার ৪২৪ কোটি (২৪.২৪ বিলিয়ন) ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে। এতে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, যদি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রথম প্রান্তিকে ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার মান দফায় দফায় অবমূল্যায়ন করা হলে তা সাধারণ ভোক্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পথও বাতলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখতে পারে, তবে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রির মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হবে, যা প্রকারান্তরে আমদানিতে চাপ কমিয়ে অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
