প্রথাগতভাবে ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১০ থেকে ৩৪ বছর বয়সি কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ৪.৫ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬.৩ শতাংশই জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, তরুণ জনগোষ্ঠীর ১৮.৪ শতাংশই প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডায়াবেটিসের এই হার কিশোরদের তুলনায় তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এবং গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহর এলাকায় বেশি দেখা গেছে। কম শারীরিক পরিশ্রম, তামাকের ব্যবহার, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপকে এই অকাল ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।
নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গবেষণায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। দেশে প্রায় ২০.৭ শতাংশ নারী গর্ভকালীন সময়ে উচ্চ রক্ত শর্করার সমস্যায় ভোগেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশেরই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জিডিএম) শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে ৬.৯ শতাংশ ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ (পিসিওএস) নামক হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন, যা বন্ধ্যত্ব ও বিপাকীয় জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকদের মতে, ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে ডায়াবেটিস তৈরি হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডনি বিকল ও স্ট্রোকের মতো জটিলতা হতে পারে। তাই এই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং), জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।







