বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে অনন্য নজির গড়া প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এবার চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে এক বছর ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে একটি চক্র। শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে এই হয়রানি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানবসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক পাওয়া ডা. কামরুল ইসলাম জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে মঈন ও তাঁর সহযোগীরা হাসপাতালে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজেও মঈন উদ্দিন মঈনকে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মীদের ধমক দিতে ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবারের সরবরাহ বা টেন্ডার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে না পেরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মঈন ও তাঁর চক্র। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা নিয়মিতভাবে হাসপাতালের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ডা. কামরুল ইসলামের দাবি, এই হয়রানির বিষয়ে বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরে বাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। শুক্রবার উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় একটি সমঝোতা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় কোনো চাঁদাবাজির অভিযোগ তাদের কাছে করা হয়নি, বরং হাসপাতালের স্টাফের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রখ্যাত এই চিকিৎসকের ওপর এমন মানসিক চাপে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।







