ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক গবেষণায়। তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহে ওয়াশিংটন প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১০ হাজার ৩০০ ডলার খরচ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। তিন সপ্তাহে দেশটির মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগপর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিদিন গড়ে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই অর্থের ৩৬ শতাংশই খরচ হয়েছে গোলাবারুদ ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে। প্রতিদিন গড়ে ৩২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও জেডিএএম বোমার মতো মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে পেন্টাগন।
অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও বিমান হামলা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে প্রতিদিন ২৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং নৌ অভিযানে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাইবার কার্যক্রমের পেছনেও বড় অংকের অর্থ খরচ হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম তিন সপ্তাহেই অবকাঠামোগত ও সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ হারিয়েছে।
এই বিশাল ব্যয় সামাল দিতে এবং সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব করেছেন। এটি গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট।
