বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ৮৬ জন নারী প্রার্থী অংশ নিলেও সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন—যাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এসব আসন সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে দল বা জোটের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়।
সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন পদ্ধতি
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, কোনো দল যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক সাধারণ আসনে জয়লাভ করে, তবে সেই অনুপাতে তারা সংরক্ষিত নারী আসন পায়। সাধারণত প্রতি ছয়টি আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়।
সংরক্ষিত আসনে একাধিক নারী প্রার্থী একই দলের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ জন্য নির্বাচন কমিশন আলাদা তফসিল ঘোষণা করে।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো আগেই নির্দিষ্ট প্রার্থী ঠিক করে রাখে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
কোন দল কতটি আসন পেতে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। জোটের অন্যান্য দলসহ মোট ২১২টি আসন পাওয়ায় তারা প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। বাকি আসনের ফল চূড়ান্ত হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। সেই হিসেবে তারা প্রায় ১২ থেকে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্ররা একত্রিত হলে তারাও সংরক্ষিত আসনে অংশ নিতে পারেন।
সংরক্ষিত আসনের ইতিহাস
বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩) ১৫টি নারী আসন সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বাড়ানো হয়—১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে ৩০টি, অষ্টম সংসদে ৪৫টি এবং নবম সংসদে ৫০টি করা হয়, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।
তবে এই আসনগুলোতে সরাসরি জনগণের ভোট না থাকায় নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এ আসনগুলো পূরণ করা হলে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।
আসন বণ্টনের নিয়ম
বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০। মোট সাধারণ আসন (৩০০) দিয়ে ভাগ করে যে অনুপাত পাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী দল বা জোটের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে নারী আসন বণ্টন করা হয়।
গণনার ক্ষেত্রে ভগ্নাংশ ০.৫ বা তার বেশি হলে একটি আসন ধরা হয়, আর এর কম হলে তা বাতিল করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে আসন বণ্টনে জটিলতা দেখা দিলে লটারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে আইনে।
