ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি বিশাল প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। ৮৬ সদস্যের এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা থাকলেও, গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কোনো ছবি প্রকাশ করেননি। পরিবর্তে তিনি পোস্ট করেছেন মিনাব স্কুলের শহীদ শিশুদের রক্ত ও ধুলোবালি মাখা স্কুল ব্যাগ এবং জুতার ছবি।
সফরের এই বিশেষ মুহূর্তে গালিবাফ কোনো প্রতীকী জিনিস নয়, বরং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা শিশুদের আসল স্মৃতিচিহ্নগুলো সঙ্গে করে ইসলামাবাদে নিয়ে গেছেন। ‘মিনাব১৬৮’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তিনি লিখেছেন, এই ফ্লাইটে তাঁরাই ছিলেন তাঁদের আসল সঙ্গী। এই শিশুদের রক্তের ঋণ মাথায় রেখেই আসন্ন আলোচনায় অংশ নেবে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ শিশুদের স্মৃতিচিহ্ন সঙ্গে রাখার মাধ্যমে গালিবাফ একই সাথে একাধিক পক্ষকে বার্তা দিয়েছেন। এটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি এবং পাকিস্তানের প্রতি গুরুত্বের বার্তা, তেমনি দেশের ভেতরে ইরানি জনগণ এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতি একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো আলোচনাতেই শহীদের আত্মত্যাগ ভুলে যাবে না ইরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হতে যাওয়া এই সংলাপের প্রাক্কালে ইরানি স্পিকারের এমন আবেগঘন ও রণকৌশলী অবস্থান বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আলোচনার টেবিলে বসার আগে শহীদদের কথা মনে রাখা এবং তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করার এই অঙ্গীকারকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।







