রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম চাঁদাবাজির বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈন হাসপাতালের মালামাল সরবরাহের নামে ‘ডিস্টার্ব’ করছিলেন এবং বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে পণ্য গছিয়ে দিচ্ছিলেন।
ডা. কামরুল ইসলাম জানান, তাঁর অজান্তেই মঈন উদ্দিন হাসপাতালে চাল ও ডিম সরবরাহ শুরু করেন, যেখানে প্রতি কেজিতে বাজারের চেয়ে অন্তত ১০ টাকা বেশি দাম ধরা হতো। হাসপাতালটি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় এই অনিয়ম বন্ধ করে সরাসরি বাজার থেকে পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিলে মঈন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি হাসপাতালে এসে কয়েক দফায় ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ এপ্রিল সকালে মঈন উদ্দিন হাসপাতালে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন। এর আগেও ২৯ মার্চ একই ধরনের ঘটনা ঘটলে শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ডা. কামরুল আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক নেতারা এই ব্যক্তিকে ‘খারাপ’ বললেও পুলিশ তাকে ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিগত ১৭ বছরে দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করা এই প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসিত। এ ঘটনায় দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ডা. কামরুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় হাসপাতালটি চাঁদাবাজমুক্ত থাকবে।
