যশোরের বিভিন্ন গ্রামে গাভি ছাড়াই কৃত্রিমভাবে নকল দুধ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নকল দুধ বিভিন্ন চেইনশপ ও বড় কোম্পানির সরবরাহ চ্যানেলের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিকন জেল, কস্টিক সোডাসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে এই দুধের মতো তরল তৈরি করা হচ্ছে। এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
সম্প্রতি যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভেরচি ঘোষপাড়ায় র্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে নকল দুধ তৈরির অভিযোগে অপু ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিলিকন জেল ও কস্টিক সোডা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি অল্প খরচে সিলিকন জেল ব্যবহার করে কয়েকগুণ বেশি পরিমাণ নকল দুধ তৈরি করতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইউটিউব দেখে শেখা কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন এবং বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের সরবরাহ চ্যানেলেও তা পৌঁছে দিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, যশোরের আটটি উপজেলায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় অর্ধশত দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের একাধিক সংগ্রহ কেন্দ্রও রয়েছে বলে জানা যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু সংগ্রহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নকল দুধকে খাঁটি হিসেবে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করা হতো। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলিকন জেল ও কস্টিক সোডা শিল্পকারখানার রাসায়নিক হলেও তা মানবদেহে প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এটি কিডনি, লিভার এবং হজমতন্ত্রের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানান, এসব রাসায়নিক শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিপজ্জনক, কারণ এটি শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, শুধু ছোট ব্যবসায়ী নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।
এদিকে র্যাব ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, নকল দুধ তৈরির এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।







