ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ও নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করাই ছিল চুক্তি না হওয়ার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশ একমত হতে পারেনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতিসহ বেশ কিছু কঠিন শর্ত ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে অভিহিত করলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গভীর অবিশ্বাস ও সংশয়ের কারণে মাত্র একটি বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল না। তবে চুক্তি না হলেও দুই দেশের মধ্যকার দৃষ্টিভঙ্গির দূরত্ব কমিয়ে আনতে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জট আরও বাড়বে নাকি নতুন কোনো মধ্যস্থতায় সমাধান আসবে, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
