আধুনিক বিশ্বের মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বাসভবনের নকশায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সরকারপ্রধানদের বাসভবনের আধুনিক স্থাপত্য ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনের নিচে থাকবে অত্যাধুনিক বাংকার ও সুড়ঙ্গপথ, যা জরুরি পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দেবে—এমন পরিকল্পনাই করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবন নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকার তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণে কাজ করছে। স্থায়ী বাসভবন এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় বিষয়টি অনেকের কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সরকারপ্রধানের বাসস্থান ও অবকাঠামো নিয়ে আগের সরকার কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপাতত নিজের গুলশান-২-এর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওঠার কথা থাকলেও সেটিকে তিনি আপাতত ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করছেন না; বরং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যই ব্যবহার করতে চান।
নতুন বাসভবনের জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং নিরাপত্তাও সর্বোচ্চ থাকবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলী রোড এলাকায় সম্ভাব্য স্থান খোঁজা হচ্ছে। সচিবালয়ের সঙ্গে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। জায়গা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে; তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, যমুনা ভবন প্রস্তুত করা হলেও প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠছেন না। ফলে স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড বা বেইলী রোডকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, বাসভবনের নকশা ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রধান স্থপতির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সচিবালয়কেন্দ্রিক যাতায়াত সহজ রাখতে এসব এলাকার কয়েকটি ভবন অধিগ্রহণ করে নতুন বাসভবন নির্মাণ করা হতে পারে।
নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বাসভবনটি তৈরি করা হবে। এতে থাকবে ভূগর্ভস্থ বাংকার ও টানেল, যা সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল মতিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী বাসভবন প্রয়োজন। গণভবন বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়ায় সেটি আর ব্যবহারের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা মূলত সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও জানান, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড বা বেইলী রোডের মধ্য থেকেই বাসভবনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ মিন্টো রোড বা হেয়ার রোড। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং সময় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য মিন্টো রোড, বেইলী রোড, গুলশান ও ধানমন্ডিতে সরকারি বাংলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেয়ার রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এও ফ্ল্যাট বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে তিনটি ১০তলা ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।







