সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আইনের ১৮(ক) ধারাটি ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার পথ করে দেওয়ায় একে ‘লুটেরাদের পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৮(ক) ধারার মূল বিতর্ক
নতুন আইনের এই ধারা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা সংকটে থাকা ব্যাংকের সাবেক মালিকরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগ করা অর্থের মাত্র ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করেই মালিকানা ফিরে পেতে পারেন। বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থ ১০ শতাংশ সরল সুদে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ‘কিস্তিতে ব্যাংক কেনা’র সুযোগটিকেই আমানতকারী ও অর্থনীতিবিদরা বৈষম্যমূলক এবং আত্মঘাতী হিসেবে বর্ণনা করছেন।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যেসব মালিকের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়েছিল, তাদের হাতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ গেলে আমানতকারীদের আস্থার সংকট চরম আকার ধারণ করবে। টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই সিদ্ধান্তকে ‘চোরতন্ত্রের পুনর্বাসন’ এবং ‘আত্মঘাতী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এস আলম ও নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা
ব্যাংকপাড়ায় জোর আলোচনা চলছে যে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোকে (যেমন: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক) পুনরায় তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতেই এই আইনি ফোঁকর তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সংসদীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধারাটি যুক্ত করার বিপক্ষে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, এই আইন আর্থিক খাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে পুরস্কৃত করবে। যারা আগে ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার করেছেন, তারা এখন সেই পাচারকৃত অর্থের সামান্য অংশ ব্যবহার করে পুনরায় ব্যাংকের মালিক বনে যাবেন, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
