ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপকে বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া একটি বিলের মাধ্যমে এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে আইনি সুরক্ষা ও মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের গচ্ছিত অর্থ লুট করে বিদেশে পাচারকারী একটি গোষ্ঠীকে এমন ছাড় দেওয়ার বিষয়টি জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিগত ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দেখা যায়, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্তত পাঁচটি ব্যাংক থেকে কৌশলে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দেয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনগণের এই টাকা বিদেশে পাচার করে আলিশান বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদ কেনা হয়েছে। লুটপাটের ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে, এর ফলে সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে হাহাকারে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে ভর্তুকি দিয়ে এই ব্যাংকগুলোকে কোনোমতে সচল রাখার চেষ্টা করে।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ আমলের মতো বর্তমান সরকারের আমলেও এস আলম গ্রুপ নতুন করে সমঝোতা শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিটিআরসি কর্তৃক এই গ্রুপটিকে অবৈধভাবে ব্যবসার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই অনুমতির কারণ জানতে বিটিআরসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক উচ্চ মহলের চাপে তারা এই অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এস আলম গ্রুপের মতো ‘রাঘববোয়াল’ চোরদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার অর্থ হলো সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জনকে আবারও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। এই বিশাল অংকের টাকার ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্সের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও সাধারণের সঞ্চয় লুট হচ্ছে, অন্যদিকে সেই লোকসান সাধারণ জনগণকেই বইতে হচ্ছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, এই লুটপাটের বিরুদ্ধে এখনই প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সঞ্চয় সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে পড়বে। যে অর্থ পাচার করা হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুরস্কৃত করা হলে দেশের আর্থিক খাত চিরস্থায়ীভাবে ধসের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
