বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা আনন্দ শোভাযাত্রার বর্তমান রূপ এবং এতে মূর্তির সংস্কৃতির সূচনা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে (বাংলা ১৩৯৬ সন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। সেই বছর থেকেই এই আয়োজনে লোকজ মোটিফ ও শিল্পকর্মের ব্যবহার শুরু হয়।
শোভাযাত্রায় বড় আকৃতির কাঠামোর প্রচলন মূলত শুরু হয়েছিল শৈল্পিক কারুকার্য ও গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে শহরের মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে। শুরুতে মাটির পুতুল, পাখি বা সাধারণ লোকজ মোটিফ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। চারুকলার তৎকালীন ছাত্র ও শিক্ষকরা রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি অসাম্প্রদায়িক এবং উৎসবমুখর প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে এই প্রতীকী শিল্পকর্মগুলোকে মিছিলে যুক্ত করেছিলেন।
বিশেষ করে পাপেট বা বড় আকৃতির এই কাঠামোগুলোর পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিল বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য। যেমন—মাটির ঘোড়া, লক্ষ্মীপেঁচা, কাগজের ফুল ও মুখোশ। এই সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, যাদের মধ্যে শিশির ভট্টাচার্য্যসহ তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। শুরুতে এটি কেবল আনন্দ শোভাযাত্রা থাকলেও ১৯৯৬ সাল থেকে এটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
এই সংস্কৃতি মূলত যশোর থেকে আসা একটি আইডিয়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে যশোরের চারুপীঠ নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম এমন লোকজ নকশাসহ শোভাযাত্রা বের করে। পরবর্তীতে ঢাকার চারুকলায় তা ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ইন্ট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ) স্বীকৃতি দিলে এটি আরও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করে।
