তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ইসরায়েল আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন—এমন একটি ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের পর তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে এরদোয়ানের দুই বছর আগের একটি বক্তব্যকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট ছাড়াই প্রচার করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টেলিগ্রাফের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে এরদোয়ান সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছিল, তুরস্ক যেভাবে লিবিয়া ও কারাবাখে হস্তক্ষেপ করেছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও তেমন পদক্ষেপ নিতে কোনো বাধা নেই। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মন্তব্যগুলো মূলত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ভুল খবরটি প্রকাশের পর তুরস্ক সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আঙ্কারার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল আক্রমণের হুমকির খবরটি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তুরস্ক বরাবরই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তুরস্কের কড়া প্রতিবাদের মুখে সোমবার সকালে টেলিগ্রাফ তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়। পত্রিকাটির একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেন যে, সংবাদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলো হয় পুরোনো ছিল অথবা একেবারেই বানানো। তবে খবরটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বেশ কিছু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তা ব্যাপকভাবে প্রচার করে।
এই ভুয়া খবরের বিতর্কের মধ্যেই তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুললে জবাবে তুর্কি কর্মকর্তারা গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে নেতানিয়াহুকে ‘এই যুগের হিটলার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এই ভিত্তিহীন সংবাদটি বাড়তি অস্থিরতা তৈরি করেছিল।







