পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, আলোচনার মাঝপথে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোনকল পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই হস্তক্ষেপের ফলে আলোচনার লক্ষ্য চ্যুত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে নেতানিয়াহুর ফোন আসার পর বৈঠকের পরিবেশ বদলে যায়। ওয়াশিংটন তখন দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার চেয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে এমন কিছু দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে যা তারা সামরিক শক্তিতে অর্জন করতে পারেনি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত শনিবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে মার্কিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। টানা ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বৈঠক শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ের পর ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। এর কিছু সময় পরই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।
আরাঘচি আরও স্পষ্ট করেন যে, তেহরান দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে নেতানিয়াহুর ফোন আসার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসলামাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি ভেস্তে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।







