মোবাইল ফোনে কল না ধরার জেরে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাসেল শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আহত ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম টুঙ্গিপাড়ার পার্শ্ববর্তী চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক। তিনি বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল দুপুরে মাদ্রাসার ভেতরেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড়বাড়িয়া গ্রামের রাসেল শেখ মাদ্রাসায় এসে হঠাৎ রফিকুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিতলমারী ও পরে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শিক্ষকের দাবি, গত ৬ এপ্রিল অনলাইন ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় রাসেলের কল ধরলেও ব্যস্ততার কারণে পরে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর পরদিনও ব্যস্ত থাকায় তিনি কল রিসিভ করতে পারেননি। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরদিন মাদ্রাসায় এসে রাসেল তাঁর ওপর হামলা চালায়। শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করছে না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রাসেল শেখ নিজেকে যুবদলের কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। হাতুড়িপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি পাল্টা দাবি করেন, ওই শিক্ষক ও তাঁর শ্বশুর মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত না দেওয়া এবং চাকরি না হওয়ার ক্ষোভ থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁর ভাষ্য।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সহকারী অধ্যাপককে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাসেল শেখকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







