বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি নেটওয়ার্ক এখন তুরস্কের দখলে। বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে আঙ্কারার মোট ১৩৩টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সামরিক শক্তির এই প্রসারে তুরস্ক এখন যুক্তরাজ্য (১১৮), রাশিয়া (৩৫) ও ভারতের (১৯) মতো শক্তিশালী দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে ৯৫টি দেশে ৮৬১টি ঘাঁটি নিয়ে এই তালিকায় এখনও প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে তুরস্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও মিশনগুলো ছড়িয়ে আছে ইরাক, সিরিয়া, কসোভো, আলবেনিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া, কাতার, আজারবাইজান ও উত্তর সাইপ্রাসে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার মাধ্যমে আঙ্কারা বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। সোমালিয়া, লিবিয়া ও চাদের মতো দেশগুলোতে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। এর মাধ্যমে আঙ্কারা সরাসরি আফ্রিকা অঞ্চলে ফ্রান্স, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তি ও উন্নত সমরাস্ত্রের সফল প্রয়োগের পর এখন সামরিক ঘাঁটির এই বিস্তার তুরস্ককে একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বিশ্ব শক্তিতে রূপান্তরের পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। নিজেদের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে এই বিপুল সংখ্যক ঘাঁটির উপস্থিতি আঙ্কারার ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
