ভারতের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বসানো চাইনিজ সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনীয় ফুটেজ ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর বিরুদ্ধে। চীনের গুয়াংঝো জুয়ান ইন্টেলিজেন্ট টেক জয়েন্ট স্টক কোং লিমিটেড দ্বারা নির্মিত ‘ইসিক্লাউড’ (EseeCloud) ব্র্যান্ডের ক্যামেরাগুলো এই তথ্য পাচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ক্যামেরাগুলো থেকে সরাসরি সংগৃহীত ফুটেজ প্রথমে চীনের ডেটা সেন্টারগুলোতে পাঠানো হতো। সেখান থেকে পরবর্তীতে আইএসআই হ্যান্ডলারদের কাছে ওইসব ফুটেজ পৌঁছাত। এর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনার রিয়েল টাইম ডেটা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যেত।
পাঞ্জাবের কাপুরথালা, জলন্ধর, পাঠানকোট, পাতিয়ালা, মোগা এবং হরিয়ানার আম্বালার মতো এলাকাগুলোতে নজরদারি চালানো হয়েছে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া, রাজস্থানের বিকানের ও আলওয়ারে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট এবং নেভাল বেসের ফুটেজও এই প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ওপরও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হতো।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক নিবিড় তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তথ্য পাচার রোধে ভারত সরকার ইতিমধ্যে ওই চাইনিজ কোম্পানি দ্বারা নির্মিত সিসিটিভি ক্যামেরা বিক্রয় ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে একটি বড় ধরনের সাইবার ও গোয়েন্দা হুমকি হিসেবে দেখছেন।
