দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করে কেবল পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে নকল ঠেকানোর তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে মান্ধাতা আমলের শিক্ষা পদ্ধতি বাদ দিয়ে গবেষণাধর্মী ও আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। কেবল কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দেশ উন্নত করা সম্ভব নয়।
নকল ঠেকানো নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা জাতির প্রকৃত কতটুকু কল্যাণ করছে তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, বর্তমান ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল একটি ছোট-বড় চাকরি পাওয়া। উদ্ভাবন বা মৌলিক গবেষণার অভাব এদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রকে স্থবির করে দিচ্ছে।
গবেষণার মান নিয়ে অভিযোগ তুলে অনেকে বলছেন, দেশে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের একটি বড় অংশের কাজই হচ্ছে অন্যের তথ্য কপি করা। এই সৃজনশীলতাহীন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যুগোপযোগী সংস্কার না আনলে দেশের মেধাবীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
এদিকে, শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে উঁকি দিয়ে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, প্রচারসর্বস্ব তৎপরতার চেয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের গলদগুলো দূর করে আধুনিকায়ন করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই।
