রাজধানীর মতিঝিলে এস আলম গ্রুপের কাছে ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তারা। রোববার সকাল থেকে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ, গ্লোবাল ইসলামী ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং ৫ আগস্টের আগের মালিকদের কাছে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও পটিয়া এলাকায়, যা এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদেরও নিজ এলাকা। অভিযোগ উঠেছে, এই কর্মসূচির জন্য গত দুই দিনে পটিয়া থেকে হাজার হাজার লোক এনে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে সনদ যাচাই এবং মূল্যায়ন পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিত ব্যক্তিদেরই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাদের সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে, তাদের ফেরানোর কোনো সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে এবং অন্যগুলো স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আগের মালিকদের ফিরিয়ে আনার দাবি জনমনে এবং ব্যাংকিং খাতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
