বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন চৌধুরীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নারীরা। রোববার রাতে জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে অবস্থিত ওই অফিসে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘পদক্ষেপ’ এনজিওর নামে অফিসটি দখল করে সেটিকে রাজনৈতিক কার্যালয় ও টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতেন মিল্টন।
মিল্টন চৌধুরী নগরীর কাউনিয়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ইতিপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। শনিবার তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে জনতা, যার প্রেক্ষিতে ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে কাউনিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে রোববার প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার মিল্টন চৌধুরী আদালতে জামিনের আবেদন করলে এলাকাবাসী আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত নারী-পুরুষরা পুলিশের উপস্থিতিতেই তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। ভাঙচুর চলাকালীন অফিসের টেবিলের ড্রয়ার থেকে নারীদের কিছু আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ভাঙচুরের সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনগণের তোপের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভ থেকে এই ভাঙচুর চালিয়েছেন।
